আমি যখন ডিগ্রি ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হলাম তখন থেকেই টিউশনি করানো শুরু করছি । আমি আমার কাজিনকে পড়াতাম তাদের বাসায় গিয়ে । তাই হঠাৎ করে একদিন এক ঘটক ওই বাসায় গিয়ে আমাকে দেখে । এবং সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, " তোমার বাসা কোথায় ? নাম কি ? কি করো তুমি ? তুমি তো আমার নাতনীর মত অনেক সুন্দর " তখন আমার আন্টি বলে," ও আমার বোনের মেয়ে।"
এরপর ঘটক আমার বাসার ঠিকানা নিয়ে আরো দু'দিন পরে বাসায় গিয়ে হাজির হলো । আমার মা-বাবার সাথে কথা বলে আমার জন্য ছেলে দেখার প্রসঙ্গ তুললো । তখন আমার মা বলে যে, " ভালো ছেলে পেলে বিয়ে দিবো । " তারপর থেকে ঘটক ছেলে দেখতে শুরু করে এবং মাঝে মাঝে দু'একটা ছেলের খবর নিয়ে আসে কিন্তু আমাদের পছন্দ হয় না । আমি তখন বলে দিয়েছিলাম যে, এখন বিয়ে করবো না পড়াশোনা করবো ।
কিন্তু মা বলল দেখতে থাকি পরে দেখা যাবে কি হয়।এরপর ঘটক একটা খবর নিয়ে আসলো ছেলে ভালো চাকরি করে ইন্টর পাস । তার একটা বোন আছে বাবা মিলে চাকরি করে মা গার্মেন্টস এ চাকরি করে । আম্মু বলল আমি মেয়ের জন্য কালো ছেলে চাই । আমার মেয়ে সুন্দর তাই ছেলে সুন্দর লাগবে না আমার মেয়েকে ভালবাসবে এমন ছেলে চাই । তো উনি সব খোঁজ নিলো আর বলল ছেলেরা মেয়ে দেখতে আসবে । মেয়ে দেখে তারা কথা বলবে আমি ভাবলাম হয়ত দেখবে তো আর কিছু না রাজি হয়ে গেলাম তখন ঘূর্নিঝড় হয়ছিলো তিতলী ।
ছেলে পক্ষরা ১২ জন আসলো সন্ধ্যার পর দেখতে আমার আন্টিরা আসলো আমাকে সাজায়লো । শাড়ি পড়িয়ে ওদের সামনে নিয়ে গেলো আর উনারা আমাকে কিছু কথা জিজ্ঞেস করল আর তাদের পছন্দ হইল । আমাকে ১০০০ টাকা দিলো আর ছেলের সাথে আলাদা কথা বলার জন্য ছাঁদে নিয়ে গেলো । আমি তাকে জিজ্ঞেস করছিলাম," আপনার কি কারো সাথে সম্পর্ক আছে ? প্রেম আছে ?" "সে বলল না । " সে বলল আপনার ও নায় তা আমি বুঝেছি নয়ত এ কথা জিজ্ঞেস করতেন না ।
আমাকে দেখে তারা বলল পরে সিদ্ধান্ত জানাবে বাসায় গিয়ে । আমার আব্বু বলল ঠিক আছে কারণ আমাদের কোনো সমস্যা নেই । আমি আর ২ দিন পর মামার বাড়িতে মানে বরিশাল বেড়াতে গেলাম । আর এক সপ্তাহ পর আসলাম , আমার মামা বিয়ের কথা শুনে রাগ করছিলো এইই ছেলের সাথে বিয়ে দিবে না । কিন্তু মামা তার নিজের বোনের উপর কথা বলতে পারছিলো না । আমি বাসায় ফিরে এসে দেখি আরেকটা ঘটক আসছে , যে কিনা আমার স্টুডেন্ট এর দাদু । সে এসে বলল ঐ ছেলে পক্ষ নাকি উনি পাঠায়ছে ,আমি সেদিন অনেক রাগ করলাম কেন এত তারাতারি বিয়ে ? আব্বু বলল তাদের পছন্দ হয়ছে তাই উনারা আংটি পড়িয়ে কিছুদিন পর বিয়ে পড়িয়ে নিয়ে যাবে ? আমি বললাম না , এখন না আমি বিয়ে করবো না । কিন্তু আম্মুর সাথে কখনো একথা বলে পারতাম না বকা ঝকা করত কারন আমি আব্বুকে অনেক ভালবাসতাম তাই । আমাকে বলত বিয়ে না করলে কি করবে বাবার কাছে থাকবে থাক গিয়ে । অনেক বকতো অনেক কথা বলত আম্মু আব্বু ভাল করে খোজও নিলোনা ছেলের । আর আব্বু বলল সবাই নাকি ছেলে কে ভালো বলে ।
তাই বেশি খোজ নিলনা অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখ আমাকে আংটি পরাতে আসলো । ছেলের বাবা ও আংকেল আসলো কিন্তু ছেলে আসে নি । উনারা আংটি পরিয়ে দিয়ে গেলো ।
বিয়ে ঠিক হল ২০১৮ এর ২২ নভেম্বর ।
২ লাখ টাকা কাবিন যা আমার এক দাদু করছে আম্মু বলছিলো এত কম কেন কিন্তু তারা শুনে নায় । ছেলের পরিবার আমার নাম্বার নিলো ছেলে ৩ বেলা কল দিতো ৫ মিনিট কথা বলত বা ২ মিনিট আমি তখনও কিছু বুঝিনায় । কারণ আমি সহজ ভাবে সবকিছু চিন্তা করছি তাই ভাবছি যে , প্রথম প্রথম তাই হয়তো কথা কম বলে ।
বিয়ের কার্ড নিয়ে হল ঝামেলা । আমার আব্বু একটু সহজ সরল মানুষ আব্বুকে তারা বোকা বানালো ।বিয়ে ফেলল বৃহস্পতিবার বউ ভাত শুক্রবার এর কথা । আব্বু ভুল করে বুঝতে পারে নায় তাদের কথাতে বিয়ের কার্ড বানাইছে শুক্রবার । এই তারিখ অনুযায়ী নিয়ে কথা কাটাকাটি হইল আমাদের নতুন করে আবার বিয়ের কার্ড বানাতে হয়ছে । গায়ে হলুদের দিন আমার হাজবেন্ড কল দেইনি । রাত ৪ টা বাজে আমার শ্বশুর আসলো আমাদের বাড়ি কেন আসল তা জানলাম না । গায়ে হলুদের রাতে আম্মু বলল বিয়ের শাড়ি দিয়ে না গেলে দেরি হবে । ঘটক বললো বিয়ের আগে তো মানুষ যে মালপত্র দিয়ে দেই এটা শুনে আম্মু বলল এ কেমন কথা ? কিন্তু তবুও সবকিছু চুপচাপ সহ্য করা হলো ।
পরে আমার বিয়েটা হল আর আমাকে নিয়ে গেলো শ্বশুর বাড়ি । বিয়ের ৩ দিন পর বাবার বাড়ি এসে তারা আমাকে কোন জামা কাপড় দেইনি থ্রি-পিছ দেয়নি । তো আমার খালামনিরা বলল, এ কেমন কথা মেয়েকে কেন থ্রি-পিছ দিলনা ? এখন কি পরব আমিও সেদিন বাবার বাড়ি থেকে কিছু নিয়ে আসি নাই । বোরকা পরে চলে আসছি যা দেখে আমার শ্বশুর আমার মা কে অনেক অপমান করল । বলল, মেয়ে নিয়ে যান ছেলে যাবে না আমার মা'কে যা মন চায় তাই বলল । আম্মু আর ভাই মানে মামা কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে আসলো ।
মা অনেক অনুরোধ করার পরে ১ সপ্তাহ পর আব্বু নিয়ে গেলো আমাকে । কিন্তু আমার হাজবেন্ড আমি বাবার বাড়ি গেলে কোন খোজ নিতো না কথা বলত না । আমার বাসায় গেলে আবার সাথে সাথে নিজের বাসায় চলে আসতো । যখন একসাথে থাকতাম সে সারারাত মোবাইল টিপত আর অন্য দিকে ঘুরে সুয়ে থাকতো আমার সাথে কোন কথা বলত না । আমি ভাবতাম, কেন এমন করে ? আমার অপরাধ কি ? আমি তো কোন দোষ করিনি তাহলে আমার সাথে এমনটা কেন হচ্ছে ? গভীর রাতে একা একা চুপ করে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরতাম ।
একদিন ওর এক মেয়ে বন্ধু মেসেজ করল, বলল ঐ মেয়েটা কেমন আছে ? মানে আমার কথা । ঐ বলল ঐ মেয়ে মানে আমাকে সেও বউ না বলে ঐ মেয়েটা বলল । তার সাথে সবসময় আমাকে ছোট করে কথা বলতো , কখনো বউ বলতো ।
তার মেয়ে বন্ধবীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল , আমার স্বামী তার মেয়ে বন্ধুর গায়ে হলুদে যেদিন যাবে সেদিন আমার সাথে ঝগড়া করল । বিনা কারনে সে আমাকে মারধর করল অনেক তাও আবার বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় । আমি বললাম, কেন যাবা এতদূর এত রাতে ? সে অনেক মারল আর চলে গেলো ।
সারারাত ওখানে থাকল আমার কোন খোজ নিলোনা আর পরদিন সকাল ১০ টায় আসল ।
কিন্তু আবার ২ দিন পর ঝগড়া করল আমাকে মারল । বলল আমি নাকি ওকে অনেক সন্দেহ করি তাই আমাকে বাপের বাড়ি একা পাঠিয়ে দিতো ।
প্রায় সময় ও আসত না আর ঝগড়া মারধর করত যার কারনে আমি ওর বাবার কাছে বলি । সে বলল ঐ যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে খাওয়াতে পারে তোমার কেন সমস্যা ? সারারাত মোবাইল টিপব দেরি করে বাসায় ফিরবো তুমি কিছু বলবা না । ওর বাবার মুখে এমন কথা শুনে আমি সত্যি সত্যি অবাক হলাম । কিন্তু কষ্টের কথা কাউকে কিছু বলতে পারিনি বলে একা একা কান্না করতাম ।
বাপের বাড়ি বেড়াতে এসে আব্বু আম্মু কে এসব বলি । তারা বলল আমাকে যেতে দিবে না । তাই এক মাস বাপের বাড়ি থাকি কিন্তু আমার শশুর শাশুড়ী তারা কোন খোজ নেইনি বাসায় আসেনি । এরপর আমার স্বামী আমাকে একদিন কল দিয়ে বলল তুমি চলে আসো আব্বু যাচ্ছে । আমার শ্বশুর আসল আমাকে অকেন বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে গেলো বলল আর এমন হবে না । আমিও সহজ সরলভাবে তার সাথে তাদের বাড়িতে চলে গেলাম ।
কিন্তু এরপর শুরু হল আমার বাবাকে অপমান করা আমার এক খালু ছিলো যে কিনা সব কিছুতে পেচঁ লাগায় দিতো । উনি আমার শ্বশুরের কাছে অনেক মিথ্যা কথা বলত যার কারনে আমার শ্বশুর আমার আব্বুকে দেখতে পারত না সহ্য করতে পারতো না । এই নিয়ে আবার ঝগড়া শুরু হল আবার বকাবকি মারামারি ।
এইবার বাড়িতে এলাম আব্বু সব জেনে বলল আর দিবে না রোজার দিন ১ মাস ২০ দিন থাকলাম । কিন্তু ওরা কোন খোজ খবর নিলো না আমি ফোন দিলে আমাকে বকাবকি করত বলত কেন কল দিছি আমি ?
ঈদ এর পরদিন আমার শ্বশুরের সাথে দেখে উনাকে দেখে আমি উনার কাছে যায় উনি অনেক কিছু বলে আর বলে ফিরে যেতে । আমার হাজবেন্ড নাকি ভাল হয়ে গেছে আমি বললাম ঠিক আছে । কিন্তু আমার আম্মু সবকিছু শুনে বলল না যাবি না তুই । কিন্তু আমি ঝগড়া করলাম মার সাথে । আমার স্বামী আর ওর বোন নিতে আসল আসার পর আব্বুর সাথে ঝগড়া করল । ১ মাস অনেক কষ্ট করলাম ওর জন্য শুধু কাঁদতাম ভাবতাম ঐ আসবে কিন্তু ও আসে না ১ মাস ২০ দিন পর আসলো আমাকে ফেরাতে ।
আমি গেলাম না ও কল দিলো সন্ধ্যায় । বলল ফিরে আসো আর এমন কিছু করব না । আমি বললাম ঠিক আছে যাবো , ওর মা বাবা এসে নিয়ে গেলো কিন্তু বুঝতে পারিনি সেদিন বিশ্বাস করে অনেক বড় ভুল করলাম ।
৬ মাস এর ভিতর এমন কাহিনী আমি এর ভিতরে ফর্ম ফিলআপ করলাম বাপের বাড়ি থাকতে ডিগ্রী ১ম বর্ষ পরীক্ষা দিবো । কিন্তু তারা পরীক্ষা দিতে দিলো না বলল, আর পড়তে দিবে না । সেদিন অনেক কান্না করলাম , প্রতিদিন সকাল ৪:৩০ উঠতে কষ্ট হত আমি ঘুমাতাম ১ টায় কারন আমার মাইগ্রেন সমস্যা ছিলো মাথায় । বিয়ের ৩ মাস পরে মাইগ্রেন হয় ঘুম থেকে উঠতে পারতাম না মাথা ব্যাথার জন্য কারন মাইগ্রেন এর ৮ ঘন্টা ঘুমের দরকার ছিলো ।তবুও কখন কিছু বলি নায় আমার শ্বাশুরি ভাল ছিলো । কারন আমি তার সব কাজ করে দিতাম যা যা বলত করতাম কখনো কিছু বলতাম না ।
কোরবানির ঈদে আমার হাজবেন্ড বলল গ্রামে যাবে চাঁদপুর । ঈদ এর দিন আমি বললাম কেন যাবা আমাদের বিবাহিত জীবনের প্রথম ঈদ যেওনা । এখানে থাকো, কিন্তু সে থাকবে না । আমার বাবা শ্বশুর বাড়ির সবাই কে দাওয়াত করল কিন্তু তারা বলল যাবেনা কারন এই দাওয়াত হয়নি । আমার আব্বু বুঝতে পারল না কেন যাবে না কি কারনে কি ভুল করলাম ? আমার হাজবেন্ড আমায় রেখে গ্রামের বাড়ি চলে গেলো । আমার ননদ আর তার হাসবেন্ড আসলো ঈদের আগের দিন । ৫ দিন পর আমার হাসবেন্ড গ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসল । এখন আমি আমাদের বাড়িতে যেতে চাই কিন্তু শ্বশুর বলল আমার ছেলে যাবে না তুমি যাও বাপের বাড়ি । বাধ্য হয়ে স্বামী ছাড়া বাপের বাড়ি গেলাম ঈদের ৭ দিন পার হয়ে গেল ।
বাপের বাড়ি ২ দিন থাকলাম এর আগে আম্মু নিতে আসছিলো সবাইকে কিন্তু আমার শ্বশুর আমার আম্মুর সাথে ঝগড়া করল আর অনেক অপমান করল । যার কারনে আম্মু রাগ করে বলল নিজের মেয়েকে এনে রাখছেন আর আমার মেয়েকে কেন যেতে দিলেন না ?
সেদিন আমার স্বামী ফোন করে আমাকে বলল তুমি কখন যেও না তোমাকে ভালবাসি । কিন্তু এটা যে মিথ্যা কথা ছিলো তা জানতাম না । আমি ওকে বিশ্বাস করতাম অনেক অনেক ভালবাসতাম ওর মুখের দিকে সবসময় চেয়ে থাকতাম ওকে প্রতিদিন সকালে ভাত খায়িয়ে দিতাম । কিন্তু ও প্রতিদিন রাতে মোবাইল টিপত রাত ১০ টা বাজে ঘর থেকে বের হত আর ফিরত ১ টা বাজলে । একদিন সকালে আমার ঘুম থেকে উঠতে অনেক দেরি হয়ে গেছিলো তাই আমার শ্বাশুরি অনেক বকা ঝকা করল তার সাথে আমার শ্বশুর ও বকাবকি করেছে । তিনি যা মন চাই বলল এরপর আমার ননদ ফোন দিয়ে অনেক কথা শোনালো । আমি অনেক কাঁদলাম সেদিন আব্বুকে বললাম সব । রাতে যখন স্বামী আসে ওর সাথে কথা বললাম না আমাকে সবাই সেদিন বকল আর আব্বুকে খবর দিলো । আব্বু আসল আর তাকে অনেক কথা বলল অপমান করল যা নয় তাই বলে ।
আমি আব্বুকে অনেক ভালবাসি তাই সেদিন আব্বুকে বললাম চলো আর থাকব না এ বাড়ি । আব্বু আমায় নিয়ে আসতে চাইনি আমি জোর করে বাসায় আসলাম । আসার কারনে আমার আম্মু অনেক বকল বলল কেন আসলাম স্বামীর ঘর রেখে এই নিয়ে ঘরে ঝগড়া শুরু হলো । যার কারনে আমি নিজে নিজে স্বামীর কাছে চলে গেলাম যা ছিলো আমার জীবনে বড় ভুল । নিজে চলে যাওয়ার কারনে আমাকে সবাই যা বলত আমি চুপ করে শুনতাম আব্বুকে কথা শোনাতো মা বাবার সাথে কথা বলতে দিতো না । ফোনে কথা বললে বলত এত কিসের কথা ? আমি বৃহস্পতিবার রোজা রাখতাম সবসময় জেনো আমাদের জীবনে কোন সমস্যা না হয় আমার স্বামী আমায় ছেড়ে না যায় ।
আমার স্বামী সমসময় খারাপ ব্যবহার করত বকত অনেক অবহেলা করত ভাবতো আমি ওর দাসি । একদিন আমি ওর কম্পিউটার ধরলাম গান শুনতে কিন্তু ওর কম্পিউটারে ছবির অপশনে চলে গেলাম । আর যা দেখলাম তা দেখার জন্য কখন ভাবি নায় । ওর সাথে মেয়েদের ছবি , একটা মেয়ের অনেক গুলো ছবি ওর সারা কম্পিউটারে ওর হাতে হাত রাখা । অনেক রকম ছবি যা দেখে আমি চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম । আর শ্বশুরকে ডাকলাম কিন্তু আমার শ্বশুর আর স্বামী বলল কেন কম্পিউটার ধরলাম ? এটা কেন করলাম তাই বিচার বসায় দিমু । আমি সেদিন বোকা হয়ে গেলাম নিজের প্রতি সবকিছু হারিয়ে গেছে । পরের দিন আমার স্বামী তার বাবাকে বলল নাদীয়া কি মাফ চাইছে ? আমার শ্বশুর বলল, "না" । এই নিয়ে আমার শ্বশুর এলাকায় অনেক কথা বলল ।
বলল কেমন মেয়ে আমার ছেলে প্রেম করে ওর নামেও বের করুম এত সাধু ? এই সব কথা শুনে ফেলে আমার এক ফ্রেন্ড পরে সে আম্মুর কাছে এসে বলে ।
রাস্তায় আব্বুর সাথে শ্বশুরের দেখা হয় যা নয় তাই বলপে আব্বু আর সহ্য করতে না পেরে বলে আমার মেয়েকে আমি ভালো শিক্ষা দিতে পারি নাই । এখন আপনারা যা মন চায় করেন । আমার শ্বশুর বাসায় এসে এগুলা বলে আমি বলি আপনারা যা মন চায় করেন । আমার স্বামী বলে তোকে রাখব না ডিভোর্স দিয়ে দিবো ঘর থেকে চলে যা ।
সেদিন আমাকে ওর মা বাবা রাত ১১ টায় আমার বাসায় দিয়ে যায় । আসার সময় ওর দিকে অনেক বার তাকাইছি কিন্তু ও আমার দিকে চাইনি । আমি বাসায় চলে আসলে আমার শ্বশুর বলে যেদিন আমার ছেলের প্রতি আমার মায়া হবে সেদিন তারা আমাকর নিয়ে যাবে ।
কিন্তু ৩ মাস পরও কোন খোজ নেইনি তবে আমার শ্বশুর একদিন আসে কিন্তু আমি দেখা করিনি । এরপর তারা বিচার বসায় আমার নামে মিথ্যা কথা বলে আমি নাকি আত্মহত্যা করতে গেছি আর আমি বাড়ির কোন কাজ করিনা । বিচারে যা লোক ছিলো সব ওদের ওরা বলল এমন প্রেম করতে পারে তোমায় মারতে পারে তুমি ভাত খাবা কিনা না ওর ?
ওর এইসব মিথ্যা কথা শুনে আমি বোবা হয়ে গেছি ।সেদিন আমি কিছু বলি নায় শুধু ভাবছি যাকে ভালবাসি সে কিনা মিথ্যা অপবাদ দিলো ? বিচারের দিন আমার প্রেসার হাই হয়ে গেছিলো যার কারনে অনেক বমি করছি আর বাথরুমে পরে গেছি । আমি কখন ভাবি নায় ও এমন করবে । বাবার বাড়ি আসার পরে ৭ মাস পার হয়ে গেছে কিন্তু তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই ।
আমার স্বামী কিছুদিন আগে ঘটকের কাছে বললো , আমি তার সংসারে যেতে পারি কিন্তু সতিনের ঘর করতে হবে । সে নাকি করোনা গেলে বিয়ে করবে আর আমাক ডিভোর্স দিয়ে দিবে ।
এটাই কি মানুষের জীবন ?

No comments:
Post a Comment